ট্রাম্পের নতুন 'Shadow Fed Chair' কৌশল: Gold ও Oil মার্কেটে কি বড় কোনো মুভ আসতে চলেছে?

ট্রেডিং দুনিয়ায় আগামী ২৮শে জানুয়ারি একটি বিশাল অস্থিরতার (Volatility) সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ঠিক বর্তমান ফেড প্রধান জেরোম পাওয়েলের FOMC মিটিংয়ের দিনেই নতুন ফেড চেয়ারের নাম ঘোষণা করতে পারেন। একজন স্মার্ট ট্রেডার হিসেবে আপনার বোঝা উচিত, কেন এই টাইমিংটি বাজারের জন্য একটি 'ব্ল্যাক সোয়ান' ইভেন্ট হতে পারে।
১. 'শ্যাডো ফেড চেয়ার' (Shadow Fed Chair) আসলে কী?
জেরোম পাওয়েলের মেয়াদ শেষ হবে আগামী মে মাসে। কিন্তু ট্রাম্প যদি জানুয়ারিতেই তার উত্তরসূরীর নাম ঘোষণা করে দেন, তবে মার্কেটে পাওয়েলের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে ম্লান হয়ে যাবে।
ইনভেস্টররা তখন পাওয়েলের বর্তমান সিদ্ধান্তের চেয়ে নতুন প্রার্থীর ভবিষ্যৎ পলিসিকে বেশি গুরুত্ব দেবে। একেই বলা হচ্ছে "Shadow Fed Chair" স্ট্র্যাটেজি। এর ফলে পাওয়েল কার্যত একটি 'লেমি ডাক' (Lame Duck) বা ক্ষমতাহীন প্রধান হিসেবে পরিচিত হবেন এবং মার্কেটের স্টিয়ারিং ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীর হাতে চলে যাবে।
২. ২৮শে জানুয়ারি: কেন এই দিনটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
জানুয়ারি ২৭-২৮ তারিখে ২০২৬ সালের প্রথম FOMC মিটিং অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২৮ তারিখ দুপুরে যখন পাওয়েল সুদের হার নিয়ে ঘোষণা দেবেন এবং প্রেস কনফারেন্সে কথা বলবেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই যদি ট্রাম্প তার প্রার্থীর নাম টুইট বা ঘোষণা করেন, তবে মার্কেটে Extreme Volatility দেখা দেবে।
নিউজ ট্রেডারদের জন্য এটি বছরের অন্যতম লাভজনক (এবং ঝুঁকিপূর্ণ) দিন হতে পারে।
৩. সম্ভাব্য ক্যান্ডিডেট এবং মার্কেট ইমপ্যাক্ট
ট্রাম্পের শর্টলিস্টে থাকা ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন ভিন্ন। নিচে তাদের সম্ভাব্য প্রভাবের একটি ছক দেওয়া হলো:
| ক্যান্ডিডেট | অর্থনৈতিক অবস্থান (Bias) | গোল্ড আউটলুক (Gold) | অয়েল আউটলুক (Oil) |
|---|---|---|---|
| Kevin Hassett (শীর্ষ বাছাই) | Dovish (নরমপন্থী) | 🚀 Bullish | 📈 Bullish |
| Kevin Warsh | Hawkish (কঠোরপন্থী) | 📉 Bearish | 📉 Bearish |
| Christopher Waller | Neutral/Dovish | 📈 Slightly Bullish | ⚖️ Neutral |
| Rick Rieder (BlackRock) | Market-Driven | ⚖️ Neutral | ⚖️ Neutral |
৪. গোল্ড (Gold) ট্রেডারদের জন্য বিশেষ বিশ্লেষণ
বুলিশ সিনারিও (Bullish):
যদি কেলভিন হ্যাসেটের মতো কাউকে বেছে নেওয়া হয়, তবে ডলার ইনডেক্স (DXY) দ্রুত দুর্বল হতে পারে। কারণ তিনি দ্রুত সুদের হার কমানোর পক্ষে। এর ফলে গোল্ডে আমরা একটি বিশাল Green Candle বা ব্রেক-আউট দেখতে পারি।
বেয়ারিশ সিনারিও (Bearish):
যদি কেভিন ওয়ার্শের মতো প্রার্থীর নাম আসে, তবে মার্কেট মনে করবে সুদের হার দীর্ঘ সময় চড়া থাকবে। এতে ডলার শক্তিশালী হবে এবং গোল্ডে শার্প Sell-off আসতে পারে।
৫. অয়েল (Oil) মার্কেটে সম্ভাব্য প্রভাব
তেলের দাম সাধারণত দুটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করবে:
-
সুদের হার:
Dovish ক্যান্ডিডেট মানেই গ্লোবাল ইকোনমি চাঙ্গা হওয়ার সংকেত, যা তেলের ডিমান্ড বাড়াবে। -
ট্রাম্পের এনার্জি পলিসি:
ট্রাম্পের "Drill, Baby, Drill" নীতি সাপ্লাই বাড়িয়ে দাম কমাতে পারে।
তাই নতুন ফেড চেয়ার ঘোষণার পর অয়েল মার্কেটে প্রথমে একটি স্পাইক দেখা দিলেও পরবর্তীতে মিক্সড রিঅ্যাকশন আসার সম্ভাবনা বেশি।
ট্রেডারদের জন্য প্রো-টিপস 💡
২৮শে জানুয়ারি যখন পাওয়েলের স্পিচ এবং ট্রাম্পের ঘোষণা একসাথে আসবে, তখন টেকনিক্যাল এনালাইসিসের চেয়ে ফান্ডামেন্টাল নিউজ বেশি কার্যকর হবে।
- রিস্ক ম্যানেজমেন্ট: ওই দিন পজিশন সাইজ স্বাভাবিকের চেয়ে ছোট রাখুন।
- স্টপ লস (SL): স্টপ লস ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক, কারণ ওই কয়েক মিনিটে গোল্ড বা অয়েলে ১০০-২০০ পিপসের মুভমেন্ট হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
- স্প্রেড সতর্কতা: হাই-ভোল্টাইল সময়ে ব্রোকারদের স্প্রেড বেড়ে যেতে পারে, তাই এন্ট্রি নেওয়ার সময় সতর্ক থাকুন।
মার্কেটের এই উত্তাল সময়ে আবেগ নিয়ন্ত্রণ করে নিউজ এবং ডেটা অনুযায়ী ট্রেড করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।